রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে আজ রোববার দুপুরে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সামসুল ইসলাম (৩২), তাঁর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁদের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (২৫) ও এনামুল ইসলাম (২০)।
আহত সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের দেহরক্ষী আলাউদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন, কামালসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতানামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। bangladesh newspapers24
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ বেলা একটার দিকে আলাউদ্দিন, রাজ্জাক ও কামালের নেতৃত্বে আসামিরা চাপাতি, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তর ইব্রাহিমপুর আদর্শ পল্লি জামে মসজিদের উত্তর পাশে সামসুল ইসলাম ও তাঁর তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামসুল ইসলাম ও তার বড় ভাই সাইফুল ইসলামকে আঘাত করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁরা নজরুল ও এনামুলকে মারধর করেন। এ ছাড়া আসামিরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। থানায় কিংবা আদালতে মামলা করলে আহতদের খুন করে গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, জমির দাবিদার একদল লোক জমি দখল করতে গিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশও ছিল। সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
source: prothom-alo
রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে আজ রোববার দুপুরে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সামসুল ইসলাম (৩২), তাঁর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁদের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (২৫) ও এনামুল ইসলাম (২০)।
আহত সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের দেহরক্ষী আলাউদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন, কামালসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতানামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। bangladesh newspapers24
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ বেলা একটার দিকে আলাউদ্দিন, রাজ্জাক ও কামালের নেতৃত্বে আসামিরা চাপাতি, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তর ইব্রাহিমপুর আদর্শ পল্লি জামে মসজিদের উত্তর পাশে সামসুল ইসলাম ও তাঁর তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামসুল ইসলাম ও তার বড় ভাই সাইফুল ইসলামকে আঘাত করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁরা নজরুল ও এনামুলকে মারধর করেন। এ ছাড়া আসামিরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। থানায় কিংবা আদালতে মামলা করলে আহতদের খুন করে গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, জমির দাবিদার একদল লোক জমি দখল করতে গিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশও ছিল। সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
source: prothom-alo
‘সন্ধান চাই, জীবিত অথবা মৃত’—কাগজে লেখা এই বাক্যের সঙ্গে ছবি, নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর। কোনোটিতে ছবি-পরিচয় দিয়ে লেখা ‘সন্ধান চাই’ মানুষের সন্ধান চেয়ে এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রবেশপথ, অধরচন্দ্র স্কুল ও আশপাশের দেয়াল।

পাশাপাশি অনেকে প্রিয় স্বজনের খোঁজে ছবিসহ নাম-পরিচয় লেখা কাগজ বা কেবল ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন। কোনো ছবি পাসপোর্ট সাইজের, কোনোটি বড়, কোনোটি স্বামী, স্ত্রী, ভাই বা পরিবারের সঙ্গে। ছবিগুলো তোলা হয়েছে স্টুডিওতে, সেজেগুজে। এখন এসব ছবির কোনো কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছেন ধ্বংসস্তূপে। বাইরে থাকা স্বজনেরা কান্নাভরা চোখে খুঁজে ফিরছেন তাঁদের। ছবি ছাড়া পোস্টারও আছে, সেই সব পোস্টারে দেওয়া আছে নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।
সাভার থানার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা ৬৩৮ জন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর করা তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৬৯০।
ফায়ার সার্ভিস ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে তিন হাজারের মতো মানুষ কাজ করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩০০ লাশ আর জীবিত অবস্থায় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে জীবিত উদ্ধার করা মানুষ ও লাশের সংখ্যা।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬১৩ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৮৪ জন। মন্ত্রণালয়ের কাছে সব মিলিয়ে এক হাজার ৭৯০ জনকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধারের হিসাব রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন পোশাকশ্রমিক বলেছেন, তাঁরা আশপাশে অনেক লাশ দেখেছেন। উদ্ধারকর্মীরাও জানিয়েছেন, এখনো অনেক লাশ আটকে রয়েছে। এই আটকে পড়াদেরই খুঁজে ফিরছেন স্বজনেরা।
নিখোঁজ কত: সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় ৬৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাবের শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ মানুষের তালিকা করা শুরু করেছেন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছে তাঁদের একটি অংশ। আর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আরেকটি অংশ সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল আর ঘটনাস্থলে ঘুরে ঘুরে তালিকা করছে। NEWS IN BANGLADESH
এই দলের একজন শিক্ষার্থী রাজিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটা পর্যন্ত তাঁরা ৬৯০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করতে পেরেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, বয়স, খোঁজে আসা অভিভাবক বা ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁরা তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। আরও প্রায় ৩০টি নাম কাগজে লিখে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হবে।
স্বজনের খোঁজে পথে পথে: নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সাভারের পথে পথে তিন দিন ধরে ঘুরছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল, ঘটনাস্থলসহ আশপাশে খুঁজছেন স্বজনদের।
গতকাল সকালে এনাম হাসপাতালের পাশে দেখা যায়, ছেলে সঙ্গীত দাসের খোঁজে দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সত্যজিৎ দাস। সঙ্গীত রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় কাজ করতেন। ছেলের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে তিনিই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া পানি আর খাবার খেয়েই রয়েছেন তিন দিন। খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও তাঁর কাছে নেই।
সত্যজিতের সঙ্গে কথা বলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলেন জনা পঞ্চাশেক মানুষ। সবাই ঘুরছেন নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে। কার কাছে গেলে মিলবে খোঁজ, তা জানেন না কেউই। তাই যেখানেই সামান্যতম সুযোগ দেখছেন, সেখানেই ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা।
এঁদের মধ্যে ভাই কামরুলকে খুঁজছেন মিন্টু, মেয়ে শান্তাকে খুঁজছেন শাহিদা, স্ত্রী সুমীকে খুঁজছেন আসাদুল, ভগ্নিপতি কামালের খোঁজে এসেছেন সুমন, ভাতিজা জাহিদকে খুঁজছেন জিয়াউর, ভগ্নিপতি রিদওয়ান ও ভাগনে শিহাবকে (রিদওয়ানের ছেলে) খুঁজছেন জাফর আলী।
এ রকম অনেক মানুষ ঘুরছেন হাসপাতালে, অধরচন্দ্র স্কুলে, ঘটনাস্থলে। সাভারে খুঁজে না পেয়ে কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেও আসছেন। শনাক্ত না হওয়া ২৩টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে।
‘সন্ধান চাই, জীবিত অথবা মৃত’—কাগজে লেখা এই বাক্যের সঙ্গে ছবি, নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর। কোনোটিতে ছবি-পরিচয় দিয়ে লেখা ‘সন্ধান চাই’ মানুষের সন্ধান চেয়ে এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রবেশপথ, অধরচন্দ্র স্কুল ও আশপাশের দেয়াল।

পাশাপাশি অনেকে প্রিয় স্বজনের খোঁজে ছবিসহ নাম-পরিচয় লেখা কাগজ বা কেবল ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন। কোনো ছবি পাসপোর্ট সাইজের, কোনোটি বড়, কোনোটি স্বামী, স্ত্রী, ভাই বা পরিবারের সঙ্গে। ছবিগুলো তোলা হয়েছে স্টুডিওতে, সেজেগুজে। এখন এসব ছবির কোনো কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছেন ধ্বংসস্তূপে। বাইরে থাকা স্বজনেরা কান্নাভরা চোখে খুঁজে ফিরছেন তাঁদের। ছবি ছাড়া পোস্টারও আছে, সেই সব পোস্টারে দেওয়া আছে নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।
সাভার থানার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা ৬৩৮ জন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর করা তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৬৯০।
ফায়ার সার্ভিস ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে তিন হাজারের মতো মানুষ কাজ করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩০০ লাশ আর জীবিত অবস্থায় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে জীবিত উদ্ধার করা মানুষ ও লাশের সংখ্যা।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬১৩ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৮৪ জন। মন্ত্রণালয়ের কাছে সব মিলিয়ে এক হাজার ৭৯০ জনকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধারের হিসাব রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন পোশাকশ্রমিক বলেছেন, তাঁরা আশপাশে অনেক লাশ দেখেছেন। উদ্ধারকর্মীরাও জানিয়েছেন, এখনো অনেক লাশ আটকে রয়েছে। এই আটকে পড়াদেরই খুঁজে ফিরছেন স্বজনেরা।
নিখোঁজ কত: সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় ৬৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাবের শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ মানুষের তালিকা করা শুরু করেছেন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছে তাঁদের একটি অংশ। আর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আরেকটি অংশ সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল আর ঘটনাস্থলে ঘুরে ঘুরে তালিকা করছে। NEWS IN BANGLADESH
এই দলের একজন শিক্ষার্থী রাজিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটা পর্যন্ত তাঁরা ৬৯০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করতে পেরেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, বয়স, খোঁজে আসা অভিভাবক বা ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁরা তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। আরও প্রায় ৩০টি নাম কাগজে লিখে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হবে।
স্বজনের খোঁজে পথে পথে: নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সাভারের পথে পথে তিন দিন ধরে ঘুরছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল, ঘটনাস্থলসহ আশপাশে খুঁজছেন স্বজনদের।
গতকাল সকালে এনাম হাসপাতালের পাশে দেখা যায়, ছেলে সঙ্গীত দাসের খোঁজে দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সত্যজিৎ দাস। সঙ্গীত রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় কাজ করতেন। ছেলের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে তিনিই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া পানি আর খাবার খেয়েই রয়েছেন তিন দিন। খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও তাঁর কাছে নেই।
সত্যজিতের সঙ্গে কথা বলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলেন জনা পঞ্চাশেক মানুষ। সবাই ঘুরছেন নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে। কার কাছে গেলে মিলবে খোঁজ, তা জানেন না কেউই। তাই যেখানেই সামান্যতম সুযোগ দেখছেন, সেখানেই ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা।
এঁদের মধ্যে ভাই কামরুলকে খুঁজছেন মিন্টু, মেয়ে শান্তাকে খুঁজছেন শাহিদা, স্ত্রী সুমীকে খুঁজছেন আসাদুল, ভগ্নিপতি কামালের খোঁজে এসেছেন সুমন, ভাতিজা জাহিদকে খুঁজছেন জিয়াউর, ভগ্নিপতি রিদওয়ান ও ভাগনে শিহাবকে (রিদওয়ানের ছেলে) খুঁজছেন জাফর আলী।
এ রকম অনেক মানুষ ঘুরছেন হাসপাতালে, অধরচন্দ্র স্কুলে, ঘটনাস্থলে। সাভারে খুঁজে না পেয়ে কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেও আসছেন। শনাক্ত না হওয়া ২৩টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে।
ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—গণমাধ্যমে এ বক্তব্য দিয়েছেন সাভারের সাংসদ তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ। কিন্তু ওপরের ছবিটি তা বলছে না। সরকারদলীয় এই সাংসদের সঙ্গে যুবলীগ নেতা রানার সম্পর্ক কতটা গভীর, ছবিটি দেখলে তা সহজেই বোঝা যায়।
সাভার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মুরাদ জংয়ের পক্ষে হরতালবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ রানার নেতৃত্বেই হতো। রানা প্লাজা ধসে পড়ার দিনও মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল।
এ ছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ঈদসহ সব ধরনের উৎসবে সোহেল রানা যেসব পোস্টার ছাপিয়ে টানিয়েছেন, তার সবগুলোতেই মুরাদ জংয়ের ছবি বড় করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পোস্টার এখনো সাভারে রয়েছে। তবে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর রানার সন্ত্রাসী বাহিনী অনেক পোস্টার তুলে ফেলেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, রানাকে পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক করেন মুরাদ জং। এখন ভবন ধসের পর যখন সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের তীব্র দাবি উঠেছে, তখনও রানাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন মুরাদ জং। BD News
জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশারাফ উদ্দিন খান বলেন, রানা কোনো রাজনীতিবিদ নন। ক্যাডার এবং সাংসদ মুরাদ জংয়ের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। সারাক্ষণ সাংসদের সঙ্গে থাকেন রানা। তিনি অভিযোগ করেন, মুরাদ জং টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ বিক্রি করেন। রানার কাছেও পদ বিক্রি করেছেন।
রানার পারিবারিক ইতিহাস: তাঁর বাবা মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের জয়মন্ডবের আবদুল খালেক। তিনি এক সময় সাভারের মধ্যপড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে ফেরি করে তেল বিক্রি করতেন। এখন তিনি সাভারের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একজন।
সোহেল রানা জমি ব্যবসার নামে নিরীহ মানুষের জমি দখলও করেন। সাভার বাসস্ট্যান্ডের ইজারা নিয়ে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও করেন রানা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রানা জমি দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমি দেননি।
রানার পরিবারের সম্পদ: সাভার পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, রানা প্লাজার নির্মাণ শুরু হয় ২০০৭ সালে। এর আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত। পেছনের দিকে ছিল জলাশয়। ভবন নির্মাণ করার আগে বালু ফেলে ভরাট করা হয়। রানা প্লাজার উদ্বোধন হয় ২০১০ সালে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের পেছনের অংশ দখল করেছিলেন রানা।
সাভার পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, রানা প্লাজার পেছনের অংশ সরকারি খাল হিসেবেই দেখেছেন তিনি। যার নাম ছিল সাধাপুর খাল। সেটি দখল করে ভবন নির্মাণ করেন রানা।
ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই—গণমাধ্যমে এ বক্তব্য দিয়েছেন সাভারের সাংসদ তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদ। কিন্তু ওপরের ছবিটি তা বলছে না। সরকারদলীয় এই সাংসদের সঙ্গে যুবলীগ নেতা রানার সম্পর্ক কতটা গভীর, ছবিটি দেখলে তা সহজেই বোঝা যায়।
সাভার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মুরাদ জংয়ের পক্ষে হরতালবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ রানার নেতৃত্বেই হতো। রানা প্লাজা ধসে পড়ার দিনও মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল।
এ ছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ঈদসহ সব ধরনের উৎসবে সোহেল রানা যেসব পোস্টার ছাপিয়ে টানিয়েছেন, তার সবগুলোতেই মুরাদ জংয়ের ছবি বড় করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পোস্টার এখনো সাভারে রয়েছে। তবে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর রানার সন্ত্রাসী বাহিনী অনেক পোস্টার তুলে ফেলেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, রানাকে পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক করেন মুরাদ জং। এখন ভবন ধসের পর যখন সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের তীব্র দাবি উঠেছে, তখনও রানাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন মুরাদ জং। BD News
জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশারাফ উদ্দিন খান বলেন, রানা কোনো রাজনীতিবিদ নন। ক্যাডার এবং সাংসদ মুরাদ জংয়ের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। সারাক্ষণ সাংসদের সঙ্গে থাকেন রানা। তিনি অভিযোগ করেন, মুরাদ জং টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ বিক্রি করেন। রানার কাছেও পদ বিক্রি করেছেন।
রানার পারিবারিক ইতিহাস: তাঁর বাবা মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের জয়মন্ডবের আবদুল খালেক। তিনি এক সময় সাভারের মধ্যপড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে ফেরি করে তেল বিক্রি করতেন। এখন তিনি সাভারের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একজন।
সোহেল রানা জমি ব্যবসার নামে নিরীহ মানুষের জমি দখলও করেন। সাভার বাসস্ট্যান্ডের ইজারা নিয়ে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও করেন রানা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রানা জমি দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমি দেননি।
রানার পরিবারের সম্পদ: সাভার পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, রানা প্লাজার নির্মাণ শুরু হয় ২০০৭ সালে। এর আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত। পেছনের দিকে ছিল জলাশয়। ভবন নির্মাণ করার আগে বালু ফেলে ভরাট করা হয়। রানা প্লাজার উদ্বোধন হয় ২০১০ সালে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের পেছনের অংশ দখল করেছিলেন রানা।
সাভার পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, রানা প্লাজার পেছনের অংশ সরকারি খাল হিসেবেই দেখেছেন তিনি। যার নাম ছিল সাধাপুর খাল। সেটি দখল করে ভবন নির্মাণ করেন রানা।
সব পোশাক কারখানার কাঠামোগত নকশা ও এগুলো কতটা ভার বহন করতে সক্ষম (লোড বিয়ারিং ক্যালকুলেশন) তার বিস্তারিত বিবরণ এক মাসের মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কার্যালয়ে জমা দিতে প্রত্যেক সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাভারের ভবনধসের ঘটনার পরই এ নির্দেশ দেওয়া হলো।
বিজিএমইএ ভবনে আজ শনিবার বিকেলে পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সমিতি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নকশা জমা হলে উভয় সমিতির পক্ষ থেকে সেগুলো আবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে কোনো কারখানায় গরমিল পাওয়া গেলে সেটির লাইসেন্স স্থগিত করা হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব কারখানায় ভবনের ওপরে জেনারেটর আছে, সেটিও এক মাসের মধ্যে নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
এস এম মান্নান বলেন, সাধারণ সভায় উপস্থিত মালিকেরা সাভারের রানার প্লাজার মালিক, নকশাবিদ, অনুমোদনকারী রাজউকের কর্মকর্তাসহ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা। Bangla News
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে পোশাক কারখানার দুজন মালিক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আমরা কথাবার্তা বলছি, আজ রাতেই হয়তো আরও দুই মালিক আত্মসমর্পণ করবেন।’
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিজিএমইএ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সাভারে ধসে যাওয়ার ভবনের পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেবে। তবে কারখানাগুলোর কার্যালয় ওই ভবনে থাকায় শ্রমিকদের তালিকার কাগজপত্রও চাপা পড়েছে। তাই ওই সব কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উত্পাদন ব্যবস্থাপককে (পিএম) সাভারে বিজিএমইএর তথ্যকেন্দ্রে এসে শ্রমিকদের নামের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সাভারের ভবনধসে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা করতে তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রত্যেক সদস্যকে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভায় বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকার চেক বিজিএমইএর সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় একটি তহবিল খোলা হবে। আর তহবিল গঠনে উভয় সমিতিই কাজ করবে।
সালাম মুর্শেদী আরও জানান, আগামী সোমবার থেকে যথারীতি দেশের সব কারখানা খোলা থাকবে। উত্পাদন হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাঁর কাছে কারখানার নিরাপত্তা চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সহসভাপতি আসলাম সানি, বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রমুখ।
সব পোশাক কারখানার কাঠামোগত নকশা ও এগুলো কতটা ভার বহন করতে সক্ষম (লোড বিয়ারিং ক্যালকুলেশন) তার বিস্তারিত বিবরণ এক মাসের মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর কার্যালয়ে জমা দিতে প্রত্যেক সদস্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাভারের ভবনধসের ঘটনার পরই এ নির্দেশ দেওয়া হলো।
বিজিএমইএ ভবনে আজ শনিবার বিকেলে পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সমিতি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর যৌথ সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নকশা জমা হলে উভয় সমিতির পক্ষ থেকে সেগুলো আবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে কোনো কারখানায় গরমিল পাওয়া গেলে সেটির লাইসেন্স স্থগিত করা হবে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব কারখানায় ভবনের ওপরে জেনারেটর আছে, সেটিও এক মাসের মধ্যে নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
এস এম মান্নান বলেন, সাধারণ সভায় উপস্থিত মালিকেরা সাভারের রানার প্লাজার মালিক, নকশাবিদ, অনুমোদনকারী রাজউকের কর্মকর্তাসহ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা। Bangla News
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে পোশাক কারখানার দুজন মালিক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আমরা কথাবার্তা বলছি, আজ রাতেই হয়তো আরও দুই মালিক আত্মসমর্পণ করবেন।’
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিজিএমইএ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সাভারে ধসে যাওয়ার ভবনের পাঁচ কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেবে। তবে কারখানাগুলোর কার্যালয় ওই ভবনে থাকায় শ্রমিকদের তালিকার কাগজপত্রও চাপা পড়েছে। তাই ওই সব কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উত্পাদন ব্যবস্থাপককে (পিএম) সাভারে বিজিএমইএর তথ্যকেন্দ্রে এসে শ্রমিকদের নামের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সাভারের ভবনধসে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তা করতে তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রত্যেক সদস্যকে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভায় বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকার চেক বিজিএমইএর সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় একটি তহবিল খোলা হবে। আর তহবিল গঠনে উভয় সমিতিই কাজ করবে।
সালাম মুর্শেদী আরও জানান, আগামী সোমবার থেকে যথারীতি দেশের সব কারখানা খোলা থাকবে। উত্পাদন হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাঁর কাছে কারখানার নিরাপত্তা চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সহসভাপতি আসলাম সানি, বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রমুখ।
সাভারে ভবনধসের ঘটনায় আজ শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০ জনে পৌঁছেছে। সকাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে উদ্ধারকাজ কিছুক্ষণের জন্য বিঘ্নিত হয়। তবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরে উদ্ধারকাজ আবার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
স্থানীয় অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে লাশ হস্তান্তর কাজে যুক্ত সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম ও ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জি প্রথম আলো ডটকমকে জানান, এ পর্যন্ত ৩৪১টি মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে ছয়টি মরদেহ। নিখোঁজ প্রিয়জনের লাশের খোঁজে স্বজনেরা অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভিড় করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নিখোঁজ হিসেবে ৮৬৯ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও শতাধিক ব্যক্তি স্বজনের নাম তালিকাভুক্ত করার অপেক্ষায় আছেন।
উদ্ধারকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ধসে পড়া ভবনের পাশে অপেক্ষায় আছেন অনেকে। News in Bangladesh
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু নয়তলা ভবনটি ধসে প্রথম তলার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেতরে থাকা লাশে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মৃতদেহ আটকে থাকতে দেখা গেছে।
গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে। এর দুই দিন আগে ভবনটির পিলারে ফাটল ধরা পড়েছিল।
Source: prothom-alo
সাভারে ভবনধসের ঘটনায় আজ শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০ জনে পৌঁছেছে। সকাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে উদ্ধারকাজ কিছুক্ষণের জন্য বিঘ্নিত হয়। তবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরে উদ্ধারকাজ আবার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
স্থানীয় অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে লাশ হস্তান্তর কাজে যুক্ত সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলম ও ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জি প্রথম আলো ডটকমকে জানান, এ পর্যন্ত ৩৪১টি মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে ছয়টি মরদেহ। নিখোঁজ প্রিয়জনের লাশের খোঁজে স্বজনেরা অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভিড় করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নিখোঁজ হিসেবে ৮৬৯ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও শতাধিক ব্যক্তি স্বজনের নাম তালিকাভুক্ত করার অপেক্ষায় আছেন।
উদ্ধারকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে ধসে পড়া ভবনের পাশে অপেক্ষায় আছেন অনেকে। News in Bangladesh
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু নয়তলা ভবনটি ধসে প্রথম তলার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ভেতরে ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেতরে থাকা লাশে পচন ধরেছে। দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মৃতদেহ আটকে থাকতে দেখা গেছে।
গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে। এর দুই দিন আগে ভবনটির পিলারে ফাটল ধরা পড়েছিল।
Source: prothom-alo
গার্মেন্টস শ্রমিক রক্ষা আন্দোলন আগামী ৪ মে বেলা তিনটায় রাজধানীর মতিঝিলে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক শোক মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই ঘোষণা দেন গার্মেন্টস শ্রমিক রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জেড এম কামরুল আনাম।
এর আগে সাভারের রানা প্লাজায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি কদমফুল ফোয়ারা হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। Bangla News
ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজা ধসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন, প্রকৃত নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, পোশাকশিল্পের ব্যবসা অব্যাহত রাখা এবং দেশি-বিদেশি ভাবমূর্তির ঘাটতি পূরণে ওই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও নিবন্ধন বাতিল, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহত ব্যক্তিদের সুচিকিত্সা ও আপত্কালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রানা প্লাজার মালিক ও ওই ভবনের কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান প্রভৃতি।
Source: prothom-alo
গার্মেন্টস শ্রমিক রক্ষা আন্দোলন আগামী ৪ মে বেলা তিনটায় রাজধানীর মতিঝিলে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক শোক মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই ঘোষণা দেন গার্মেন্টস শ্রমিক রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জেড এম কামরুল আনাম।
এর আগে সাভারের রানা প্লাজায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শোক মিছিল বের হয়। মিছিলটি কদমফুল ফোয়ারা হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। Bangla News
ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজা ধসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন, প্রকৃত নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, পোশাকশিল্পের ব্যবসা অব্যাহত রাখা এবং দেশি-বিদেশি ভাবমূর্তির ঘাটতি পূরণে ওই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও নিবন্ধন বাতিল, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহত ব্যক্তিদের সুচিকিত্সা ও আপত্কালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রানা প্লাজার মালিক ও ওই ভবনের কারখানার মালিকদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান প্রভৃতি।
Source: prothom-alo
আগামী ২ মে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া ও সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে।
এছাড়াও সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার প্রতিবাদে ৩০ এপ্রিল শোক দিবস পালন করবে ১৮ দলীয় জোট। ওই দিন শোক র্যালিও বের করবে তারা। News24
৪ মে ঢাকায় একটি জনসভা করবে ১৮ দলীয় জোট। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন।
আজ শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও ১৮ দলীয় জোট নেতাদের এক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ এক প্রেস বিফ্রিংয়ে জোটের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। এর পর ১৮ দলীয় জোটের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে জোট নেতারা অংশ নেন।
Source: prothom-alo
আগামী ২ মে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া ও সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে।
এছাড়াও সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার প্রতিবাদে ৩০ এপ্রিল শোক দিবস পালন করবে ১৮ দলীয় জোট। ওই দিন শোক র্যালিও বের করবে তারা। News24
৪ মে ঢাকায় একটি জনসভা করবে ১৮ দলীয় জোট। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন।
আজ শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও ১৮ দলীয় জোট নেতাদের এক বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ এক প্রেস বিফ্রিংয়ে জোটের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। এর পর ১৮ দলীয় জোটের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে জোট নেতারা অংশ নেন।
Source: prothom-alo
তাঁরা কেউ কাউকে চেনেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে পড়া ভবনের ভেতর ঢুকে পরিচয়। পরস্পরের নামও জানা নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গত বুধবার থেকেই ভবনের ভেতর ঢুকে উদ্ধার করেন জীবিত-মৃত শ খানেক মানুষকে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ছুরি আর হ্যাক্সো ব্লেড চালিয়ে পা কেটে চারজনকে, হাত কেটে একজনকে জীবিত বের করে এনেছেন তাঁরা।

দীর্ঘ পরিশ্রম আর ভবনের ভেতরের গুমোট পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের চারজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনা হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে আসার পর চারজন পরস্পরের নাম জানতে পারেন। আর তখনই জানা যায়, এই কয়েকজন যুবকের জীবন বাজি রেখে স্বেচ্ছায় উদ্ধারকর্মী হওয়ার এক অসামান্য গল্প।
এই চারজন হলেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি রুবেল, স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন, পোশাকসামগ্রীর ব্যবসায়ী মো. হাবিব ও ব্যবসায়ী কাওসার হীরা। দুই দিনের এই উদ্ধারকাজে সঙ্গী বাকি তিনজনের নাম জানাতে পারেননি এই চারজন। নাম জানার ফুরসতই তাঁরা পাননি।
শুধু এই সাতজন নন, বুধবার থেকেই শত শত সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে চিড়েচেপ্টা হয়ে যাওয়া নয়তলা ভবনের ভেতর ঢুকে ও বাইরে থেকে উদ্ধারকাজ করে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে ভবনের ভেতরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। স্থানীয় মানুষই ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করছেন, অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে বা লাশ রাখার স্থানে নিচ্ছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিড় সামলাচ্ছেন, অ্যাম্বুলেন্স আর ওষুধ নিয়ে আসা যানবাহনের দ্রুত চলাচলের রাস্তা করে দিচ্ছেন, রক্ত দিচ্ছেন। এ এক অভূতপূর্ব সহমর্মিতার উপাখ্যান। তাঁরাই স্বজনের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে খাবার আর পানি দিচ্ছেন, হাসপাতাল আর লাশ রাখার জায়গা চিনিয়ে দিচ্ছেন, সান্ত্বনা আর পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজধানী থেকে মানুষ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ওষুধ, খাবার আর পানি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। News in Bangladesh
ওঁরা সাতজন: স্বেচ্ছায় উদ্ধারকর্মী হয়ে পড়া সাতজনের দলটির একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মো. রুবেলের বড় বোন রিমা ও ভগ্নিপতি ফরিদ ভবনের চারতলায় ফ্যান্টম ট্যাক কারখানায় কাজ করতেন। ভবনধসের পর ফরিদ বের হতে পারলেও রিমাকে লাশ হতে হয়েছে। রিমার লাশটা আটকে রয়েছে একটা বিমের নিচে। রুবেল বোনের মৃত মুখটা দেখতে পারলেও বোনকে উদ্ধার করতে পারেননি। বোনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি তিনি। অন্যদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ এক মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছেন সর্বশক্তি দিয়ে।
স্নাতকের ছাত্র আবিরের বাসা ঢাকার আজিমপুরে। সাভারে ভবনধসের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। একপর্যায়ে নিজে থেকেই উদ্ধারকাজে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানান, বুধবার বেলা একটার দিকে চেপে থাকা দুই ছাদের ফোকর দিয়ে কোনোরকমে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন আরও ছয়জন কাজ করছেন। আবিরের দাবি, তাঁরা অন্তত দেড় শ জনকে সেখান থেকে বের করেছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন মৃত।
আবির বলেন, বুধবার ভবনের ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা কয়েকজনকে টেনে বের করেন। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া ব্যক্তিরা তখন চিৎকার করছিলেন। তাঁরা সেই শব্দ শনাক্ত করে করে সামান্য হাতুড়ি-ছেনি ব্যবহার করে দেয়াল ভেঙে কয়েকজনকে উদ্ধার করে আনেন। কিন্তু ভবনটি এমনভাবে ধসেছে যে দুটি ছাদের মাঝে কেবল শুয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে অল্প জায়গায় চলা যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় শুয়ে শুয়ে হাতুড়ি-ছেনি দিয়ে কাজ করা যাচ্ছিল না। ভেতরে যেমন প্রচণ্ড গরম, তেমন নিকষ অন্ধকার। বুকভরে শ্বাসও নেওয়া যায় না। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ।
এই উদ্ধারকারীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে মৃতদেহগুলো থেকে গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়েছে। সেটাও পরিবেশ ভারী করে তুলছে। বারবার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য বললেও কোনো কাজ হয়নি।
কীভাবে এই পরিবেশে কাজ করেছেন, প্রশ্ন করলে কাওসার হীরা বলেন, ‘দুই ছাদের মাঝের সরু জায়গায় শুয়ে পড়ে ‘কেউ আছেন’ বলে চিৎকার করি। কোনো প্রান্ত থেকে সাড়া মিললে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। বা বাইরে থাকা উদ্ধারকর্মীদের বিষয়টি জানাই। তখন ভেতর থেকে ফোকর করে ও বাইরে থেকে দেয়াল ভেঙে উদ্ধার করা হয় তাঁদের।’
আরেকজন স্বনিয়োজিত উদ্ধারকর্মী হাবিব ওই এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, গতকাল তাঁরা একজনের ওপর আরেকজন করে পড়ে থাকা তিনজন নারীকে ভবনের এক অংশে খুঁজে পান। তিনজনের একজন জীবিত ছিলেন। পাখি নামের ওই মেয়েটির একটি পা ভবনের বিমের নিচে চাপা ছিল। পরে হাঁটুর ওপর থেকে পা কেটে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তাঁরা। কারণ, এ ছাড়া তাঁকে আর বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। আরেকজন পুরুষকর্মীর গোড়ালি কেটে পা মুক্ত করে বের করে আনেন তাঁরা।
হাবিব আর রুবেল বলেন, হাত-পা চাপা পড়ে আটকে থাকা কাউকে পেলে প্রথমে তাঁরা বাইরে অপেক্ষায় থাকা চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। চিকিৎসকেরাই আটকে পড়া অঙ্গ কেটে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সিদ্ধান্ত দেন। তবে এর জন্য উদ্ধারকারী যুবকদের চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগের কৌশল শিখিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। পাখি নামের মেয়েটিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাঁর শরীরে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। তারপর চিকিৎসকদের পরামর্শমতো চাপা পড়া পা দড়ি আর ব্যান্ডেজের কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে সরবরাহ করা ছুরি দিয়ে সেটি বিচ্ছিন্ন করেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাখিকে বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। এই উদ্ধারকাজে তাঁদের সময় লেগেছে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।
রুবেল বলেন, ‘কাজ করার সময় খেয়াল ছিল না। পরে ছিন্ন অঙ্গ দেখে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে অন্যরা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।’
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিচালক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে ঘটনাস্থলে অস্ত্রোপচার করে কিছু লোককে উদ্ধার করতে হবে। সে জন্য সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল গণি মোল্লার নেতৃত্বে চারজন চিকিৎসকসহ কয়েজন নার্স ও ওয়ার্ডবয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে অস্ত্রোপচারের পর উদ্ধার করে।
দীর্ঘ সময় না খাওয়া, পরিশ্রম ও অতিরিক্ত ঘামের ফলে এসব উদ্ধারকর্মী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে এনাম মেডিকেলে নিয়ে তাঁদের অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয়।
এই চার উদ্ধারকর্মী জানান, ভবনের ভেতর থেকে তাঁরা ১০০-এর বেশি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার হাতে দিয়েছেন। যাতে পরবর্তী সময়ে তাঁদের পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়।
Source: prothom-alo
তাঁরা কেউ কাউকে চেনেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে পড়া ভবনের ভেতর ঢুকে পরিচয়। পরস্পরের নামও জানা নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গত বুধবার থেকেই ভবনের ভেতর ঢুকে উদ্ধার করেন জীবিত-মৃত শ খানেক মানুষকে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ছুরি আর হ্যাক্সো ব্লেড চালিয়ে পা কেটে চারজনকে, হাত কেটে একজনকে জীবিত বের করে এনেছেন তাঁরা।

দীর্ঘ পরিশ্রম আর ভবনের ভেতরের গুমোট পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের চারজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনা হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে আসার পর চারজন পরস্পরের নাম জানতে পারেন। আর তখনই জানা যায়, এই কয়েকজন যুবকের জীবন বাজি রেখে স্বেচ্ছায় উদ্ধারকর্মী হওয়ার এক অসামান্য গল্প।
এই চারজন হলেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি রুবেল, স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন, পোশাকসামগ্রীর ব্যবসায়ী মো. হাবিব ও ব্যবসায়ী কাওসার হীরা। দুই দিনের এই উদ্ধারকাজে সঙ্গী বাকি তিনজনের নাম জানাতে পারেননি এই চারজন। নাম জানার ফুরসতই তাঁরা পাননি।
শুধু এই সাতজন নন, বুধবার থেকেই শত শত সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে চিড়েচেপ্টা হয়ে যাওয়া নয়তলা ভবনের ভেতর ঢুকে ও বাইরে থেকে উদ্ধারকাজ করে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে ভবনের ভেতরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। স্থানীয় মানুষই ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করছেন, অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে বা লাশ রাখার স্থানে নিচ্ছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিড় সামলাচ্ছেন, অ্যাম্বুলেন্স আর ওষুধ নিয়ে আসা যানবাহনের দ্রুত চলাচলের রাস্তা করে দিচ্ছেন, রক্ত দিচ্ছেন। এ এক অভূতপূর্ব সহমর্মিতার উপাখ্যান। তাঁরাই স্বজনের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে খাবার আর পানি দিচ্ছেন, হাসপাতাল আর লাশ রাখার জায়গা চিনিয়ে দিচ্ছেন, সান্ত্বনা আর পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজধানী থেকে মানুষ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ওষুধ, খাবার আর পানি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। News in Bangladesh
ওঁরা সাতজন: স্বেচ্ছায় উদ্ধারকর্মী হয়ে পড়া সাতজনের দলটির একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি মো. রুবেলের বড় বোন রিমা ও ভগ্নিপতি ফরিদ ভবনের চারতলায় ফ্যান্টম ট্যাক কারখানায় কাজ করতেন। ভবনধসের পর ফরিদ বের হতে পারলেও রিমাকে লাশ হতে হয়েছে। রিমার লাশটা আটকে রয়েছে একটা বিমের নিচে। রুবেল বোনের মৃত মুখটা দেখতে পারলেও বোনকে উদ্ধার করতে পারেননি। বোনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি তিনি। অন্যদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ এক মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছেন সর্বশক্তি দিয়ে।
স্নাতকের ছাত্র আবিরের বাসা ঢাকার আজিমপুরে। সাভারে ভবনধসের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। একপর্যায়ে নিজে থেকেই উদ্ধারকাজে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানান, বুধবার বেলা একটার দিকে চেপে থাকা দুই ছাদের ফোকর দিয়ে কোনোরকমে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন আরও ছয়জন কাজ করছেন। আবিরের দাবি, তাঁরা অন্তত দেড় শ জনকে সেখান থেকে বের করেছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন মৃত।
আবির বলেন, বুধবার ভবনের ভেতরে ঢোকার পর তাঁরা কয়েকজনকে টেনে বের করেন। বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া ব্যক্তিরা তখন চিৎকার করছিলেন। তাঁরা সেই শব্দ শনাক্ত করে করে সামান্য হাতুড়ি-ছেনি ব্যবহার করে দেয়াল ভেঙে কয়েকজনকে উদ্ধার করে আনেন। কিন্তু ভবনটি এমনভাবে ধসেছে যে দুটি ছাদের মাঝে কেবল শুয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে অল্প জায়গায় চলা যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় শুয়ে শুয়ে হাতুড়ি-ছেনি দিয়ে কাজ করা যাচ্ছিল না। ভেতরে যেমন প্রচণ্ড গরম, তেমন নিকষ অন্ধকার। বুকভরে শ্বাসও নেওয়া যায় না। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ।
এই উদ্ধারকারীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে মৃতদেহগুলো থেকে গন্ধ ছড়ানো শুরু হয়েছে। সেটাও পরিবেশ ভারী করে তুলছে। বারবার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য বললেও কোনো কাজ হয়নি।
কীভাবে এই পরিবেশে কাজ করেছেন, প্রশ্ন করলে কাওসার হীরা বলেন, ‘দুই ছাদের মাঝের সরু জায়গায় শুয়ে পড়ে ‘কেউ আছেন’ বলে চিৎকার করি। কোনো প্রান্ত থেকে সাড়া মিললে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। বা বাইরে থাকা উদ্ধারকর্মীদের বিষয়টি জানাই। তখন ভেতর থেকে ফোকর করে ও বাইরে থেকে দেয়াল ভেঙে উদ্ধার করা হয় তাঁদের।’
আরেকজন স্বনিয়োজিত উদ্ধারকর্মী হাবিব ওই এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, গতকাল তাঁরা একজনের ওপর আরেকজন করে পড়ে থাকা তিনজন নারীকে ভবনের এক অংশে খুঁজে পান। তিনজনের একজন জীবিত ছিলেন। পাখি নামের ওই মেয়েটির একটি পা ভবনের বিমের নিচে চাপা ছিল। পরে হাঁটুর ওপর থেকে পা কেটে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তাঁরা। কারণ, এ ছাড়া তাঁকে আর বাঁচানোর কোনো উপায় ছিল না। আরেকজন পুরুষকর্মীর গোড়ালি কেটে পা মুক্ত করে বের করে আনেন তাঁরা।
হাবিব আর রুবেল বলেন, হাত-পা চাপা পড়ে আটকে থাকা কাউকে পেলে প্রথমে তাঁরা বাইরে অপেক্ষায় থাকা চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান। চিকিৎসকেরাই আটকে পড়া অঙ্গ কেটে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সিদ্ধান্ত দেন। তবে এর জন্য উদ্ধারকারী যুবকদের চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগের কৌশল শিখিয়ে দেন চিকিৎসকেরা। পাখি নামের মেয়েটিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে তাঁর শরীরে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। তারপর চিকিৎসকদের পরামর্শমতো চাপা পড়া পা দড়ি আর ব্যান্ডেজের কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে সরবরাহ করা ছুরি দিয়ে সেটি বিচ্ছিন্ন করেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাখিকে বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। এই উদ্ধারকাজে তাঁদের সময় লেগেছে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।
রুবেল বলেন, ‘কাজ করার সময় খেয়াল ছিল না। পরে ছিন্ন অঙ্গ দেখে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে অন্যরা আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।’
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিচালক খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে ঘটনাস্থলে অস্ত্রোপচার করে কিছু লোককে উদ্ধার করতে হবে। সে জন্য সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল গণি মোল্লার নেতৃত্বে চারজন চিকিৎসকসহ কয়েজন নার্স ও ওয়ার্ডবয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে অস্ত্রোপচারের পর উদ্ধার করে।
দীর্ঘ সময় না খাওয়া, পরিশ্রম ও অতিরিক্ত ঘামের ফলে এসব উদ্ধারকর্মী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে এনাম মেডিকেলে নিয়ে তাঁদের অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয়।
এই চার উদ্ধারকর্মী জানান, ভবনের ভেতর থেকে তাঁরা ১০০-এর বেশি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার হাতে দিয়েছেন। যাতে পরবর্তী সময়ে তাঁদের পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়।
Source: prothom-alo
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে আড়াই বছরের এক মেয়েশিশু। এ ঘটনায় অপর এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চূড়ামণি আবাসন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম সুখী। তার বাবার দাবি, জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের গুলিতেই তাঁর মেয়ে মারা গেছে। তবে পুলিশ বলেছে, ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরেই গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। News in Bangladesh
এদিকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অপর শিশু শফিকে (১১) স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে একই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। নিহত সুখীর বাবা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি চূড়ামণি পাহাড়ের লিচুবাগানে কাজ শেষে বিকেল চারটার দিকে বাড়ি ফিরছিলাম। সঙ্গে স্ত্রী ও তার কোলে মেয়ে সুখী ছিল। এ সময় তিন-চারজন সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে এসে আমার ভাই আলমগীরকে খুঁজতে থাকে। তারা আমাকেই আলমগীর মনে করে গুলি করে। কিন্তু গুলি লাগে সুখীর গায়ে।’
গুরুতর আহত অবস্থায় সুখীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আলমগীর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই হামলা চালান। হামলার সময় একটি গুলি জাহাঙ্গীরের কনুই ছুঁয়ে চলে যায়। এতে তিনি হাতে আঘাত পান।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে জামায়াত-শিবিরের কিছু কর্মী রাতে এই প্রকল্প এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় যুবলীগের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ শুরু হয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এমরান ভূঁইয়া বলেন, ‘গ্রামে দুটি বিবদমান পক্ষ আছে বলে জেনেছি। এ ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অভিযোগের ব্যাপারে ওই এলাকার জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
Source: prothom-alo
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে আড়াই বছরের এক মেয়েশিশু। এ ঘটনায় অপর এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চূড়ামণি আবাসন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম সুখী। তার বাবার দাবি, জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের গুলিতেই তাঁর মেয়ে মারা গেছে। তবে পুলিশ বলেছে, ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরেই গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। News in Bangladesh
এদিকে পায়ে গুলিবিদ্ধ অপর শিশু শফিকে (১১) স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে একই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। নিহত সুখীর বাবা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি চূড়ামণি পাহাড়ের লিচুবাগানে কাজ শেষে বিকেল চারটার দিকে বাড়ি ফিরছিলাম। সঙ্গে স্ত্রী ও তার কোলে মেয়ে সুখী ছিল। এ সময় তিন-চারজন সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে এসে আমার ভাই আলমগীরকে খুঁজতে থাকে। তারা আমাকেই আলমগীর মনে করে গুলি করে। কিন্তু গুলি লাগে সুখীর গায়ে।’
গুরুতর আহত অবস্থায় সুখীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আলমগীর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেই জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই হামলা চালান। হামলার সময় একটি গুলি জাহাঙ্গীরের কনুই ছুঁয়ে চলে যায়। এতে তিনি হাতে আঘাত পান।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে জামায়াত-শিবিরের কিছু কর্মী রাতে এই প্রকল্প এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় যুবলীগের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ শুরু হয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এমরান ভূঁইয়া বলেন, ‘গ্রামে দুটি বিবদমান পক্ষ আছে বলে জেনেছি। এ ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অভিযোগের ব্যাপারে ওই এলাকার জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
Source: prothom-alo
সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে শিল্প পুলিশের দুই সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের এখন সাভারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই দুজন হলেন শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুকুল ও কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম।
শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবন ধসে পড়তে পারে—এমন গুজব শুনে গত বুধবার সকালে এএসআই মুকুল ও কনস্টেবল রফিকুল রানা প্লাজা পরিদর্শনে যান। তাঁরা তিন তলায় অবস্থানকালে সকাল পৌনে নয়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। এতে তাঁরা দুজন আটকা পড়েন। News24
আজ সকাল নয়টার দিকে জীবিত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সাভার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
শিল্প পুলিশের আশুলিয়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, মুকুল ও রফিকুল দুজনই সুস্থ রয়েছেন। তাঁরা শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন।
Source: prothom-alo
সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে শিল্প পুলিশের দুই সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের এখন সাভারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই দুজন হলেন শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুকুল ও কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম।
শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবন ধসে পড়তে পারে—এমন গুজব শুনে গত বুধবার সকালে এএসআই মুকুল ও কনস্টেবল রফিকুল রানা প্লাজা পরিদর্শনে যান। তাঁরা তিন তলায় অবস্থানকালে সকাল পৌনে নয়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে। এতে তাঁরা দুজন আটকা পড়েন। News24
আজ সকাল নয়টার দিকে জীবিত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সাভার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
শিল্প পুলিশের আশুলিয়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, মুকুল ও রফিকুল দুজনই সুস্থ রয়েছেন। তাঁরা শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন।
Source: prothom-alo