বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট ও হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ মে) ও রোববারের (১২ মে) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।
পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ মে এর পরীক্ষা হবে ৩১ মে। ওই দিন সকালের পরীক্ষা হবে নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আর বিকেলের পরীক্ষা হবে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। ১২ মে এর পরীক্ষা হবে আগামী ১ জুন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম আজ বুধবার প্রথম আলো ডটকমে এ তথ্য জানান।
এ নিয়ে হরতালের কারণে চলতি বছর ছয় দিনের এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়েছে।
source: prothom-alo
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট ও হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ মে) ও রোববারের (১২ মে) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।
পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ মে এর পরীক্ষা হবে ৩১ মে। ওই দিন সকালের পরীক্ষা হবে নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আর বিকেলের পরীক্ষা হবে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। ১২ মে এর পরীক্ষা হবে আগামী ১ জুন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম আজ বুধবার প্রথম আলো ডটকমে এ তথ্য জানান।
এ নিয়ে হরতালের কারণে চলতি বছর ছয় দিনের এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়েছে।
source: prothom-alo
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার রাজধানীর গোপীবাগ দ্বিতীয় লেনের বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। আজ রাত ১১ টার দিকে মহানগর পুলিশ তাঁর বাসায় এ অভিযান শুরু করে। এ সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছেন। News24
সাদেক হোসেন খোকার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাও তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
source: prothom-alo
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার রাজধানীর গোপীবাগ দ্বিতীয় লেনের বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। আজ রাত ১১ টার দিকে মহানগর পুলিশ তাঁর বাসায় এ অভিযান শুরু করে। এ সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছেন। News24
সাদেক হোসেন খোকার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাও তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
source: prothom-alo
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সামরিক সরকার নয়। তাদের ক্ষমতার উত্স অস্ত্র নয়, জনগণ। তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে গত নির্বাচনে সরকারে এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনো কারও আলটিমেটাম গ্রহণ করে নাই। এবারও করবে না। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনার আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিন। আলোচনার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত।’ এ সময় হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ও বিএনপি একই দল বলে তিনি মন্তব্য করেন।আজ রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সৈয়দ আশরাফ দেশের সাম্প্রতিক অবস্থায় দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।হেফাজতের কর্মসূচির বিষয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। সারা দেশে আজ যারা তুলকালাম করেছে, তা কখনো বরদাশত করা হবে না। এবার তাদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়েছে। আর কখনো তাদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।’স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আলবদর, রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে সহিংসতা শুরু করেছে। তাদের সেই প্রেতাত্মা হয়ে হেফাজতে ইসলাম সহিংসতা শুরু করেছে। আমি হেফাজত ইসলামকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ত্যাগ করুন। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানকে দুর্বলতা ভাববেন না।’ News In Bangladeshঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার বিষয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, যত্রতত্র গ্রেনেড ও গুলি করা হয়েছে। হেফাজতকে বলতে চাই, আপনাদের হুমকি-ধমকিতে ভয় পাই না। সংঘাতের দিকে এগোলে আওয়ামী লীগই আপনাদের শায়েস্তা করতে প্রস্তুত। আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ নারীদের উদ্দেশে সংযত কথা বলুন। সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ দুর্বল নয়। দেশের শান্তি রক্ষায় সরকার যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’ হেফাজতের কর্মসূচির পরই বিএনপির আলটিমেটামের কোনো যোগসূত্র আছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, ‘এটা কাকতালীয়ভাবে হয়েছে। তবে পরে ডিজাইন করা হয়েছে।’আলটিমেটামের পর বিএনপি যদি সহিংসতা বা তাদের ঢাকায় অবস্থান নেয়, তাহলে সরকার কী অবস্থা নেবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। তারা যদি সহিংসতা করে কিংবা দেশজুড়ে সংঘাতকে উসকে দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দেশ কি আবার ১/১১-এর দিকে ফিরে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কখনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না। হয়তো অন্য কোনো ব্যবস্থা আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির অবস্থান প্রায় দুই মেরুতে। সুতরাং তাদের ভুলের কারণে যে সমস্যা হয়েছে, সেটা এ দেশে কখনো হবে না।’ বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনো আদর্শগত মিল আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানের কার্যক্রমে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত একই দল। তাদের কর্মকাণ্ডও একই। আজকের সমাবেশে দেখবেন ওই তিন দলের লোকেরাই আছে।’এ সময় একজন সাংবাদিক জানতে চান, গতকাল খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে গেলে জোব্বা পরেন, তসবি টেপেন আর ভারতে গেলে তিলক আঁকেন। তাঁর বেশভূষার ঠিক নেই। তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না।’ এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বক্তব্য চান ওই সাংবাদিক। জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আসলে খালেদা জিয়া যা বলেন তা তিনি বিশ্বাস করেন না, যা বিশ্বাস করেন তা তিনি বলেন না। উনি হেফাজতকে খুশি করতেই এই কথা বলেছেন। সস্তা কিছু ভোটের জন্য খালেদা জিয়া এগুলো বলছেন।’বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘মতিঝিলের সমাবেশে খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করেছেন। বিএনপি ১৯৯৬ সালে একদলীয় সরকারের নির্বাচন করেছিল। ওই সময় সহিংসতায় ৭০ জন মানুষ প্রাণ হারায়। এটা হলো বিএনপির চরিত্র। ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এরপর তারা সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগের অধীনে অনেক নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়া সমালোচনা করলেও এসব কথা তিনি বলেননি।’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে যেভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন, সেটা কখনো আমরা বিশ্বাস করি না। তবে আমরা কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পাই না।’হেফাজতের ১৩ দফা দাবির ব্যাপারে অবস্থান জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৩ দফার প্রায় অনেকগুলো আমাদের সংবিধানে আছে। তারা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। অথচ হাজারো নারী আজ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত। পার্লামেন্টে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে, সেনাবাহিনীতে সর্বক্ষেত্রে নারীর জয়যাত্রা। তারা এই জয়যাত্রা ব্যাহত করতে চায়। তবে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপে তা প্রতিহত করবে। এসব দাবি নিয়ে হেফাজত কখনো রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারবে না।’সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
source: prothom-alo
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সামরিক সরকার নয়। তাদের ক্ষমতার উত্স অস্ত্র নয়, জনগণ। তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে গত নির্বাচনে সরকারে এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনো কারও আলটিমেটাম গ্রহণ করে নাই। এবারও করবে না। আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপনার আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিন। আলোচনার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত।’ এ সময় হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ও বিএনপি একই দল বলে তিনি মন্তব্য করেন।আজ রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সৈয়দ আশরাফ দেশের সাম্প্রতিক অবস্থায় দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।হেফাজতের কর্মসূচির বিষয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম হলো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। সারা দেশে আজ যারা তুলকালাম করেছে, তা কখনো বরদাশত করা হবে না। এবার তাদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হয়েছে। আর কখনো তাদের ঢাকায় আসতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।’স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আলবদর, রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে সহিংসতা শুরু করেছে। তাদের সেই প্রেতাত্মা হয়ে হেফাজতে ইসলাম সহিংসতা শুরু করেছে। আমি হেফাজত ইসলামকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ত্যাগ করুন। আমাদের শান্তিপূর্ণ আহ্বানকে দুর্বলতা ভাববেন না।’ News In Bangladeshঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার বিষয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, যত্রতত্র গ্রেনেড ও গুলি করা হয়েছে। হেফাজতকে বলতে চাই, আপনাদের হুমকি-ধমকিতে ভয় পাই না। সংঘাতের দিকে এগোলে আওয়ামী লীগই আপনাদের শায়েস্তা করতে প্রস্তুত। আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশ্লীল কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ নারীদের উদ্দেশে সংযত কথা বলুন। সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ দুর্বল নয়। দেশের শান্তি রক্ষায় সরকার যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।’ হেফাজতের কর্মসূচির পরই বিএনপির আলটিমেটামের কোনো যোগসূত্র আছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, ‘এটা কাকতালীয়ভাবে হয়েছে। তবে পরে ডিজাইন করা হয়েছে।’আলটিমেটামের পর বিএনপি যদি সহিংসতা বা তাদের ঢাকায় অবস্থান নেয়, তাহলে সরকার কী অবস্থা নেবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। তারা যদি সহিংসতা করে কিংবা দেশজুড়ে সংঘাতকে উসকে দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দেশ কি আবার ১/১১-এর দিকে ফিরে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কখনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় না। হয়তো অন্য কোনো ব্যবস্থা আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির অবস্থান প্রায় দুই মেরুতে। সুতরাং তাদের ভুলের কারণে যে সমস্যা হয়েছে, সেটা এ দেশে কখনো হবে না।’ বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনো আদর্শগত মিল আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানের কার্যক্রমে বোঝা যাচ্ছে, জামায়াত-বিএনপি-হেফাজত একই দল। তাদের কর্মকাণ্ডও একই। আজকের সমাবেশে দেখবেন ওই তিন দলের লোকেরাই আছে।’এ সময় একজন সাংবাদিক জানতে চান, গতকাল খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে গেলে জোব্বা পরেন, তসবি টেপেন আর ভারতে গেলে তিলক আঁকেন। তাঁর বেশভূষার ঠিক নেই। তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না।’ এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বক্তব্য চান ওই সাংবাদিক। জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আসলে খালেদা জিয়া যা বলেন তা তিনি বিশ্বাস করেন না, যা বিশ্বাস করেন তা তিনি বলেন না। উনি হেফাজতকে খুশি করতেই এই কথা বলেছেন। সস্তা কিছু ভোটের জন্য খালেদা জিয়া এগুলো বলছেন।’বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘মতিঝিলের সমাবেশে খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করেছেন। বিএনপি ১৯৯৬ সালে একদলীয় সরকারের নির্বাচন করেছিল। ওই সময় সহিংসতায় ৭০ জন মানুষ প্রাণ হারায়। এটা হলো বিএনপির চরিত্র। ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এরপর তারা সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগের অধীনে অনেক নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়া সমালোচনা করলেও এসব কথা তিনি বলেননি।’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে যেভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন, সেটা কখনো আমরা বিশ্বাস করি না। তবে আমরা কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পাই না।’হেফাজতের ১৩ দফা দাবির ব্যাপারে অবস্থান জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৩ দফার প্রায় অনেকগুলো আমাদের সংবিধানে আছে। তারা নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। অথচ হাজারো নারী আজ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত। পার্লামেন্টে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে, সেনাবাহিনীতে সর্বক্ষেত্রে নারীর জয়যাত্রা। তারা এই জয়যাত্রা ব্যাহত করতে চায়। তবে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপে তা প্রতিহত করবে। এসব দাবি নিয়ে হেফাজত কখনো রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারবে না।’সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
source: prothom-alo
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাস্তিক্যবাদীদের সঙ্গ ছেড়ে তওবা করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে আস্তিক্যবাদীদের সঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
BD News24
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত ‘শানে রিসালত’ মহাসমাবেশে শাহ আহমদ শফী এই আহ্বান জানান। তিনি আগামী ৫ মের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘১৩ দফা মেনে নিন। না হলে ৫ তারিখে এ দেশ কোন দিকে যাবে, তা আমি জানি না।’
আহমদ শফী বলেন, ‘সরকারকে জানাইতেছি, নেত্রীকে জানাইতেছি, তওবা কইরা ১৩ দফা মেনে নিন। ১৩ দফা কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না। এই ১৩ দফা দাবির একমাত্র দাবি নাস্তিকদের এ দেশ থেকে তাড়াতে হবে। নাস্তিকবাদীরা এ দেশে থাকতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘সরকার আমার কাছে বার বার লোক পাঠাইছে। আমি বলেছি, আমি একা কোনো ফয়সালা দিতে পারব না। তারা বলে, তোমাদের দাবি মানব। আমি বলেছি, দাবি মাইনা ঘোষণা দিতে হবে। তোমাদের পলিসি আমরা বুঝি। আমরা বেকুব না। আমাদের ধোঁকা দিতে চাইছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আর ধোঁকা খাব না। হয় আমাদের দাবি মানবেন, না হয় শাহাদতবরণ করব।’
নারীদের রাস্তায় চলাফেরা ও পোশাক পরার প্রতি ইঙ্গিত করে শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চলে, বাংলাদেশের নারীদের ওইভাবে চলতে হবে।’
হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া আল-কওমিয়া বাংলাদেশের (উত্তরবঙ্গ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) ব্যবস্থাপনায় এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের উত্তরবঙ্গের সভাপতি বগুড়ার জামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি (ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি) নূর হোসাইন কাশেমী বলেন, সাভার ট্র্যাজেডি আল্লাহর গজব। এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। ২৭ এপ্রিল নারী সমাবেশ করার পাঁয়তারা করায় এসব গজব নাজিল হয়েছে।’
মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমির মুফতি হারুন ইযাহার, মুফতি ওয়াক্কাস, আবদুল লতিফ নিজামি, আবদুর রউফ ইউসুফী, আবদুর রকিব, মহিউদ্দিন আকরাম, বগুড়া জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা শামছুল ইসলাম প্রমুখ।
বেলা ১১টা থেকে মহাসমাবেশ শুরু হয়। সংগঠনের প্রধান আল্লামা আহমদ শফী বেলা তিনটারর দিকে চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ায় আসেন। তিনি শহরের বনানীতে সুলতানগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নামেন। সেখান থেকে জামিল মাদ্রাসায় বিশ্রাম করে বিকেল চারটায় মহাসমাবেশে যোগ দেন। এই মহাসমাবেশে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে হেফাজতের কর্মীরা যোগ দেন। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও শার্ট ও গেঞ্জি পরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষকে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা গেছে। সমাবেশস্থলে বিএনপি-সমর্থিত চিকিত্সকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পক্ষ থেকে চিকিত্সা ক্যাম্প খোলা হয়।
এদিকে গত শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই মহাসমাবেশে পাঁচ লাখ লোকের সমাগমের কথা জানানো হয়েছিল। বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ লোকের সমাগমের কথা বলা হলেও সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে।
মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ বগুড়া শহর
হেফাজতে ইসলামের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আজ বগুড়া শহর কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার অদূরে সূত্রাপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই হেফাজতে ইসলামের স্বেচ্ছাসেবীরা অবস্থান নেন। বেশ কয়েকটি সড়ক নিজেরাই বন্ধ করে দিয়ে বাইরের জেলা থেকে আসা কর্মী বহনকারী যানবাহন প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এতে ওই সব এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
মহাসমাবেশ বেলা ১১টায় ডাকা হলেও সকাল নয়টার পর থেকেই শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, শেরপুর সড়ক, গোহাইল সড়ক, স্টেশন সড়ক, জব্বার সড়কসহ আরও বেশ কয়েকটি সড়কে হেফাজতের কর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সাতমাথা-শেরপুর সড়কের পিটিআই মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের দোকানপাটও বন্ধ ছিল। একই অবস্থা ছিল গোহাইল ও স্টেশন সড়কে। জলেশ্বরীতলা এলাকার অনেক বিপণিবিতান ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিনভর বন্ধ রাখেন।
source: prothom-alo
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাস্তিক্যবাদীদের সঙ্গ ছেড়ে তওবা করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে আস্তিক্যবাদীদের সঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
BD News24
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত ‘শানে রিসালত’ মহাসমাবেশে শাহ আহমদ শফী এই আহ্বান জানান। তিনি আগামী ৫ মের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘১৩ দফা মেনে নিন। না হলে ৫ তারিখে এ দেশ কোন দিকে যাবে, তা আমি জানি না।’
আহমদ শফী বলেন, ‘সরকারকে জানাইতেছি, নেত্রীকে জানাইতেছি, তওবা কইরা ১৩ দফা মেনে নিন। ১৩ দফা কোনো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না। এই ১৩ দফা দাবির একমাত্র দাবি নাস্তিকদের এ দেশ থেকে তাড়াতে হবে। নাস্তিকবাদীরা এ দেশে থাকতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘সরকার আমার কাছে বার বার লোক পাঠাইছে। আমি বলেছি, আমি একা কোনো ফয়সালা দিতে পারব না। তারা বলে, তোমাদের দাবি মানব। আমি বলেছি, দাবি মাইনা ঘোষণা দিতে হবে। তোমাদের পলিসি আমরা বুঝি। আমরা বেকুব না। আমাদের ধোঁকা দিতে চাইছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আর ধোঁকা খাব না। হয় আমাদের দাবি মানবেন, না হয় শাহাদতবরণ করব।’
নারীদের রাস্তায় চলাফেরা ও পোশাক পরার প্রতি ইঙ্গিত করে শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চলে, বাংলাদেশের নারীদের ওইভাবে চলতে হবে।’
হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া আল-কওমিয়া বাংলাদেশের (উত্তরবঙ্গ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) ব্যবস্থাপনায় এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের উত্তরবঙ্গের সভাপতি বগুড়ার জামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি (ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি) নূর হোসাইন কাশেমী বলেন, সাভার ট্র্যাজেডি আল্লাহর গজব। এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে। ২৭ এপ্রিল নারী সমাবেশ করার পাঁয়তারা করায় এসব গজব নাজিল হয়েছে।’
মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমির মুফতি হারুন ইযাহার, মুফতি ওয়াক্কাস, আবদুল লতিফ নিজামি, আবদুর রউফ ইউসুফী, আবদুর রকিব, মহিউদ্দিন আকরাম, বগুড়া জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা শামছুল ইসলাম প্রমুখ।
বেলা ১১টা থেকে মহাসমাবেশ শুরু হয়। সংগঠনের প্রধান আল্লামা আহমদ শফী বেলা তিনটারর দিকে চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ায় আসেন। তিনি শহরের বনানীতে সুলতানগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নামেন। সেখান থেকে জামিল মাদ্রাসায় বিশ্রাম করে বিকেল চারটায় মহাসমাবেশে যোগ দেন। এই মহাসমাবেশে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে হেফাজতের কর্মীরা যোগ দেন। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও শার্ট ও গেঞ্জি পরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষকে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা গেছে। সমাবেশস্থলে বিএনপি-সমর্থিত চিকিত্সকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পক্ষ থেকে চিকিত্সা ক্যাম্প খোলা হয়।
এদিকে গত শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই মহাসমাবেশে পাঁচ লাখ লোকের সমাগমের কথা জানানো হয়েছিল। বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ লোকের সমাগমের কথা বলা হলেও সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে।
মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ বগুড়া শহর
হেফাজতে ইসলামের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আজ বগুড়া শহর কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার অদূরে সূত্রাপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই হেফাজতে ইসলামের স্বেচ্ছাসেবীরা অবস্থান নেন। বেশ কয়েকটি সড়ক নিজেরাই বন্ধ করে দিয়ে বাইরের জেলা থেকে আসা কর্মী বহনকারী যানবাহন প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এতে ওই সব এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
মহাসমাবেশ বেলা ১১টায় ডাকা হলেও সকাল নয়টার পর থেকেই শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, শেরপুর সড়ক, গোহাইল সড়ক, স্টেশন সড়ক, জব্বার সড়কসহ আরও বেশ কয়েকটি সড়কে হেফাজতের কর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সাতমাথা-শেরপুর সড়কের পিটিআই মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের দোকানপাটও বন্ধ ছিল। একই অবস্থা ছিল গোহাইল ও স্টেশন সড়কে। জলেশ্বরীতলা এলাকার অনেক বিপণিবিতান ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিনভর বন্ধ রাখেন।
source: prothom-alo
সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হতভাগ্যা শাহীনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দিনভর উদ্ধারকর্মীরা শাহীনাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের চেষ্টা করেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শাহীনার মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। তাঁর মরদেহ অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়েছে।
Breaking News Online
গতকাল সকালে ভারী যন্ত্র দিয়ে সাভারের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ধসে পড়া ভবনের তৃতীয় তলায় শাহীনাসহ কয়েকজন জীবিত রয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত হন। এ জন্য ওই অভিযান স্থগিত করা হয়। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়া শাহীনাকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টার সময় তৈরি করা সুড়ঙ্গে রাত ১০টার দিকে আগুন লাগে। এ সময় উদ্ধারকর্মীরা নিরাপদে বের হয়ে এলেও শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেননি। সেখান থেকে রাত দেড়টার দিকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ওপর থেকে সেখানে পানি ছিটাচ্ছিলেন। পরে আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হতভাগ্য শাহীনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
source: prothom-alo
সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হতভাগ্যা শাহীনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দিনভর উদ্ধারকর্মীরা শাহীনাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের চেষ্টা করেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শাহীনার মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। তাঁর মরদেহ অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়েছে।
Breaking News Online
গতকাল সকালে ভারী যন্ত্র দিয়ে সাভারের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ধসে পড়া ভবনের তৃতীয় তলায় শাহীনাসহ কয়েকজন জীবিত রয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত হন। এ জন্য ওই অভিযান স্থগিত করা হয়। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়া শাহীনাকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টার সময় তৈরি করা সুড়ঙ্গে রাত ১০টার দিকে আগুন লাগে। এ সময় উদ্ধারকর্মীরা নিরাপদে বের হয়ে এলেও শাহীনাকে উদ্ধার করতে পারেননি। সেখান থেকে রাত দেড়টার দিকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ওপর থেকে সেখানে পানি ছিটাচ্ছিলেন। পরে আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হতভাগ্য শাহীনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
source: prothom-alo
রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে আজ রোববার দুপুরে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সামসুল ইসলাম (৩২), তাঁর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁদের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (২৫) ও এনামুল ইসলাম (২০)।
আহত সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের দেহরক্ষী আলাউদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন, কামালসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতানামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। bangladesh newspapers24
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ বেলা একটার দিকে আলাউদ্দিন, রাজ্জাক ও কামালের নেতৃত্বে আসামিরা চাপাতি, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তর ইব্রাহিমপুর আদর্শ পল্লি জামে মসজিদের উত্তর পাশে সামসুল ইসলাম ও তাঁর তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামসুল ইসলাম ও তার বড় ভাই সাইফুল ইসলামকে আঘাত করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁরা নজরুল ও এনামুলকে মারধর করেন। এ ছাড়া আসামিরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। থানায় কিংবা আদালতে মামলা করলে আহতদের খুন করে গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, জমির দাবিদার একদল লোক জমি দখল করতে গিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশও ছিল। সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
source: prothom-alo
রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে আজ রোববার দুপুরে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতিসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সামসুল ইসলাম (৩২), তাঁর বড় ভাই সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও তাঁদের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (২৫) ও এনামুল ইসলাম (২০)।
আহত সামসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের দেহরক্ষী আলাউদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন, কামালসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতানামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। bangladesh newspapers24
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ বেলা একটার দিকে আলাউদ্দিন, রাজ্জাক ও কামালের নেতৃত্বে আসামিরা চাপাতি, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তর ইব্রাহিমপুর আদর্শ পল্লি জামে মসজিদের উত্তর পাশে সামসুল ইসলাম ও তাঁর তিন ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামসুল ইসলাম ও তার বড় ভাই সাইফুল ইসলামকে আঘাত করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁরা নজরুল ও এনামুলকে মারধর করেন। এ ছাড়া আসামিরা তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। থানায় কিংবা আদালতে মামলা করলে আহতদের খুন করে গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, জমির দাবিদার একদল লোক জমি দখল করতে গিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশও ছিল। সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
source: prothom-alo
‘সন্ধান চাই, জীবিত অথবা মৃত’—কাগজে লেখা এই বাক্যের সঙ্গে ছবি, নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর। কোনোটিতে ছবি-পরিচয় দিয়ে লেখা ‘সন্ধান চাই’ মানুষের সন্ধান চেয়ে এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রবেশপথ, অধরচন্দ্র স্কুল ও আশপাশের দেয়াল।

পাশাপাশি অনেকে প্রিয় স্বজনের খোঁজে ছবিসহ নাম-পরিচয় লেখা কাগজ বা কেবল ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন। কোনো ছবি পাসপোর্ট সাইজের, কোনোটি বড়, কোনোটি স্বামী, স্ত্রী, ভাই বা পরিবারের সঙ্গে। ছবিগুলো তোলা হয়েছে স্টুডিওতে, সেজেগুজে। এখন এসব ছবির কোনো কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছেন ধ্বংসস্তূপে। বাইরে থাকা স্বজনেরা কান্নাভরা চোখে খুঁজে ফিরছেন তাঁদের। ছবি ছাড়া পোস্টারও আছে, সেই সব পোস্টারে দেওয়া আছে নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।
সাভার থানার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা ৬৩৮ জন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর করা তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৬৯০।
ফায়ার সার্ভিস ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে তিন হাজারের মতো মানুষ কাজ করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩০০ লাশ আর জীবিত অবস্থায় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে জীবিত উদ্ধার করা মানুষ ও লাশের সংখ্যা।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬১৩ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৮৪ জন। মন্ত্রণালয়ের কাছে সব মিলিয়ে এক হাজার ৭৯০ জনকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধারের হিসাব রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন পোশাকশ্রমিক বলেছেন, তাঁরা আশপাশে অনেক লাশ দেখেছেন। উদ্ধারকর্মীরাও জানিয়েছেন, এখনো অনেক লাশ আটকে রয়েছে। এই আটকে পড়াদেরই খুঁজে ফিরছেন স্বজনেরা।
নিখোঁজ কত: সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় ৬৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাবের শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ মানুষের তালিকা করা শুরু করেছেন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছে তাঁদের একটি অংশ। আর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আরেকটি অংশ সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল আর ঘটনাস্থলে ঘুরে ঘুরে তালিকা করছে। NEWS IN BANGLADESH
এই দলের একজন শিক্ষার্থী রাজিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটা পর্যন্ত তাঁরা ৬৯০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করতে পেরেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, বয়স, খোঁজে আসা অভিভাবক বা ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁরা তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। আরও প্রায় ৩০টি নাম কাগজে লিখে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হবে।
স্বজনের খোঁজে পথে পথে: নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সাভারের পথে পথে তিন দিন ধরে ঘুরছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল, ঘটনাস্থলসহ আশপাশে খুঁজছেন স্বজনদের।
গতকাল সকালে এনাম হাসপাতালের পাশে দেখা যায়, ছেলে সঙ্গীত দাসের খোঁজে দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সত্যজিৎ দাস। সঙ্গীত রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় কাজ করতেন। ছেলের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে তিনিই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া পানি আর খাবার খেয়েই রয়েছেন তিন দিন। খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও তাঁর কাছে নেই।
সত্যজিতের সঙ্গে কথা বলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলেন জনা পঞ্চাশেক মানুষ। সবাই ঘুরছেন নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে। কার কাছে গেলে মিলবে খোঁজ, তা জানেন না কেউই। তাই যেখানেই সামান্যতম সুযোগ দেখছেন, সেখানেই ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা।
এঁদের মধ্যে ভাই কামরুলকে খুঁজছেন মিন্টু, মেয়ে শান্তাকে খুঁজছেন শাহিদা, স্ত্রী সুমীকে খুঁজছেন আসাদুল, ভগ্নিপতি কামালের খোঁজে এসেছেন সুমন, ভাতিজা জাহিদকে খুঁজছেন জিয়াউর, ভগ্নিপতি রিদওয়ান ও ভাগনে শিহাবকে (রিদওয়ানের ছেলে) খুঁজছেন জাফর আলী।
এ রকম অনেক মানুষ ঘুরছেন হাসপাতালে, অধরচন্দ্র স্কুলে, ঘটনাস্থলে। সাভারে খুঁজে না পেয়ে কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেও আসছেন। শনাক্ত না হওয়া ২৩টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে।
‘সন্ধান চাই, জীবিত অথবা মৃত’—কাগজে লেখা এই বাক্যের সঙ্গে ছবি, নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর। কোনোটিতে ছবি-পরিচয় দিয়ে লেখা ‘সন্ধান চাই’ মানুষের সন্ধান চেয়ে এমন পোস্টারে ছেয়ে গেছে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালের প্রবেশপথ, অধরচন্দ্র স্কুল ও আশপাশের দেয়াল।

পাশাপাশি অনেকে প্রিয় স্বজনের খোঁজে ছবিসহ নাম-পরিচয় লেখা কাগজ বা কেবল ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন। কোনো ছবি পাসপোর্ট সাইজের, কোনোটি বড়, কোনোটি স্বামী, স্ত্রী, ভাই বা পরিবারের সঙ্গে। ছবিগুলো তোলা হয়েছে স্টুডিওতে, সেজেগুজে। এখন এসব ছবির কোনো কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছেন ধ্বংসস্তূপে। বাইরে থাকা স্বজনেরা কান্নাভরা চোখে খুঁজে ফিরছেন তাঁদের। ছবি ছাড়া পোস্টারও আছে, সেই সব পোস্টারে দেওয়া আছে নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র।
সাভার থানার পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভবনধসের ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা ৬৩৮ জন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর করা তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা ৬৯০।
ফায়ার সার্ভিস ও গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে তিন হাজারের মতো মানুষ কাজ করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩০০ লাশ আর জীবিত অবস্থায় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ক্ষণে ক্ষণে বাড়ছে জীবিত উদ্ধার করা মানুষ ও লাশের সংখ্যা।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২৯৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬১৩ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৮৪ জন। মন্ত্রণালয়ের কাছে সব মিলিয়ে এক হাজার ৭৯০ জনকে জীবিত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধারের হিসাব রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজন পোশাকশ্রমিক বলেছেন, তাঁরা আশপাশে অনেক লাশ দেখেছেন। উদ্ধারকর্মীরাও জানিয়েছেন, এখনো অনেক লাশ আটকে রয়েছে। এই আটকে পড়াদেরই খুঁজে ফিরছেন স্বজনেরা।
নিখোঁজ কত: সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় ৬৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাবের শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ মানুষের তালিকা করা শুরু করেছেন গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশমুখে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছে তাঁদের একটি অংশ। আর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আরেকটি অংশ সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল আর ঘটনাস্থলে ঘুরে ঘুরে তালিকা করছে। NEWS IN BANGLADESH
এই দলের একজন শিক্ষার্থী রাজিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটা পর্যন্ত তাঁরা ৬৯০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করতে পেরেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, বয়স, খোঁজে আসা অভিভাবক বা ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর তাঁরা তথ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। আরও প্রায় ৩০টি নাম কাগজে লিখে নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হবে।
স্বজনের খোঁজে পথে পথে: নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সাভারের পথে পথে তিন দিন ধরে ঘুরছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতাল, অধরচন্দ্র স্কুল, ঘটনাস্থলসহ আশপাশে খুঁজছেন স্বজনদের।
গতকাল সকালে এনাম হাসপাতালের পাশে দেখা যায়, ছেলে সঙ্গীত দাসের খোঁজে দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সত্যজিৎ দাস। সঙ্গীত রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় কাজ করতেন। ছেলের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে তিনিই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া পানি আর খাবার খেয়েই রয়েছেন তিন দিন। খাবার কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকাও তাঁর কাছে নেই।
সত্যজিতের সঙ্গে কথা বলার সময় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলেন জনা পঞ্চাশেক মানুষ। সবাই ঘুরছেন নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে। কার কাছে গেলে মিলবে খোঁজ, তা জানেন না কেউই। তাই যেখানেই সামান্যতম সুযোগ দেখছেন, সেখানেই ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা।
এঁদের মধ্যে ভাই কামরুলকে খুঁজছেন মিন্টু, মেয়ে শান্তাকে খুঁজছেন শাহিদা, স্ত্রী সুমীকে খুঁজছেন আসাদুল, ভগ্নিপতি কামালের খোঁজে এসেছেন সুমন, ভাতিজা জাহিদকে খুঁজছেন জিয়াউর, ভগ্নিপতি রিদওয়ান ও ভাগনে শিহাবকে (রিদওয়ানের ছেলে) খুঁজছেন জাফর আলী।
এ রকম অনেক মানুষ ঘুরছেন হাসপাতালে, অধরচন্দ্র স্কুলে, ঘটনাস্থলে। সাভারে খুঁজে না পেয়ে কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেও আসছেন। শনাক্ত না হওয়া ২৩টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে।